1. rony07557@gmail.com : admin :
রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ ‍শিরোনাম :
লেখক মুশতাক আহমেদের শেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসে সংহতি জানিয়ে খালি পায়ে মিছিল মন খেয়ালে খান শাহরিয়ার ফয়সাল ধর্ষিতার পাশে রক্তদানে আমরা কেন্দুয়ার সংগঠন পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত সেনাসদস্যদের স্মরণে ছাত্র অধিকার পরিষদের শ্রদ্ধাঞ্জলি কাদের মির্জাকে দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ ইচ্ছে অনুযায়ী ছেলের পাশে চিরনিদ্রায় এটিএম শামসুজ্জামান প্যাডে ভাত না থাকলে শরম দিয়া অইবে কি ? আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও ফাল্গুনের প্রথম দিন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসলে সীমান্ত দিয়ে মানুষ তো দূরে কথা একটা পাখিও ঢুকতে পারবে না : অমিত শাহ সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে লন্ডনে বসবাসের গুরুত্ব দিচ্ছেন

ভয় নেই টিকা নিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২১

মহামারিকালে যার অপেক্ষায় গোটা দেশবাসী, বহুকাক্সিক্ষত সেই করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে টিকা দেওয়া হচ্ছে। সমাজের নানা পেশা ও গুরুত্বপূর্ণ মানুষ টিকা নিচ্ছেন। অনেকেই টিকা নিয়েছেন, অনেকেই টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে চলা সমালোচনার জবাবে টিকার ভয়কে জয় করেছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালে ৫৪১ জন করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন। এর আগের দিন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরুর মাধ্যমে বিশ্বের ৫৪তম দেশ হিসেবে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয় বাংলাদেশে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে গত এক বছরে পুরো বিশ্বে ২০ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিদিনই এই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। মৃত্যুযাত্রা থামাতে পুরো বিশ্ব প্রতীক্ষায় ছিল ভ্যাকসিনের। বাংলাদেশে যে টিকা দেওয়া হচ্ছে তা কোভিশিল্ড অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার আবিষ্কৃত ভ্যাকসিন, যা তৈরি করেছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়  (বিএসএমএমইউ) চারটি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারটি, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারটি, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চারটি এবং কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে একটি বুথে টিকা দেওয়া হয়। এই পাঁচটি হাসপাতালে ৫০০ স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ধরে সকালে কাজ শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত টিকা নেন ৫৪১ জন। সকাল ৯টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বুথে প্রথম টিকা নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। পরে বেলা পৌনে ১১টার দিকে
টিকা নেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। দেশের প্রথম এমপি এবং সরকারের প্রতিমন্ত্রী, যিনি টিকা পেলেন। এখানে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান ও তথ্য সচিব খাজা মিয়া টিকা নেন। অন্যদিকে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাসের টিকা নেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে চারটি বুথে ১৯৮ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারটি বুথে ১২০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারটি বুথে ৬৫ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চারটি বুথে ৫৮ জন এবং কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে ১০০ জন করোনার টিকা নেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম জানান, সকাল ৯টা থেকে এসব হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর টিকার প্রয়োগ শুরু হয়। পাঁচটি হাসপাতালে ৫০০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত টিকা নেন ৫৪১ জন।

সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা, যা ‘নিরাপদ এবং অধিকাংশের ক্ষেত্রে কার্যকর সুরক্ষা দিতে পারে’ বলে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে। আট সপ্তাহের ব্যবধানে এ টিকার দুটি ডোজ নিতে হবে সবাইকে। বাংলাদেশে যেহেতু এ টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়নি, তাই বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী প্রথম দফায় ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালে নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তির ওপর এ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হবে। সব ঠিক থাকলে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ বলেন, পলক টিকা নিয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে জনগণকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, যে ধরনের অপপ্রচার সোশ্যাল মিডিয়ায় ষড়যন্ত্রকারী এবং দেশবিরোধীরা করছে, তাতে কেউ যেন কান না দেয়। সে জন্য আমি মিডিয়ার সামনে টিকা নিয়েছি। টিকা নিরাপদ। সবাই নির্ভয়ে টিকা দিন। তিনি বলেন, সুরক্ষা অ্যাপে আবেদন জমা পড়ছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরের সঙ্গে সার্ভারে সংরক্ষিত তথ্য না মিললে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না।

 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ নিজের টিকাদানের অনুভ‚তি সম্পর্কে বলেন, ভালো লাগছে। তবে বিশেষ কিছু অনুভব করছি না। এটি অন্য সাধারণ টিকার মতোই। সাংবাদিকদের নিবন্ধনপূর্বক টিকা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের জনসমাগমের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হয়। দ্রুত টিকা গ্রহণ করুন। প্রতিমন্ত্রী এ সময় টিকা নিয়ে গুজব ও অপপ্রচার রোধ করতে সাংবাদিকদের ভ‚মিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে আজ টিকা প্রদান করতে এসেছি। করোনার টিকা নিয়ে বিশেষ মহলের গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সাধারণ মানুষকে স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে টিকাদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ বুঝুক এটি একটি নিরাপদ টিকা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেলা ১১টায় প্রথমে বিএসএমএমইউতে যান এবং সেখানে টিকাদান কর্মসূচি পরিদর্শন করেন। সেখানে সকালে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জোনাইদ আহমেদ পলক এমপি, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়–য়াসহ অনেকেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এমপি, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবিএম জামালসহ বিভিন্ন ফ্রন্টলাইনাররা ভ্যাকসিন নেন।

 

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে’ টিকা দেওয়া হচ্ছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ টিকা নিচ্ছেন। একটা আনন্দঘন পরিবেশে টিকা দেওয়া কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অনেকেই টিকা নিয়েছেন, অনেকেই এসেছেন। যে পরিবেশ, মনে হলো যে ঈদের ভাব। যেভাবে ঈদ হয়, সেরকম আনন্দমুখর পরিবেশে টিকা নেওয়া হচ্ছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হয়েছে। এখন পর্যন্ত যারা টিকা নিয়েছেন, তারা সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন এবং কারও পাশর্^প্রতিক্রিয়ার কথা শোনেননি বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, করোনার টিকা নিয়ে আতঙ্ক অনেকটাই কেটে গেছে। কারণ যারা টিকা নিয়েছেন তারা ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। অ্যাপে যারা নিবন্ধন করতে পারবেন না তারা টিকা কেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। তিনি বলেন, করোনা নিয়ে সব ধরনের গুজব মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। মানুষ স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে করোনার ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। প্রতিটি ভ্যাকসিন কেন্দ্রে একটি অন্যরকম আমেজ চলে এসেছে। ভ্যাকসিনগ্রহীতা কোনো একজনেরও কোনো রকম অসুবিধা হয়নি।

রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ভ্যাকসিন নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাশর্^প্রতিক্রিয়া হবে এমন কোনো কথা নেই। একটা কথা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন, কোনো ভ্যাকসিনে মৃদু পাশর্^প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। শিশুদের যখন ভ্যাকসিন দেওয়া হয় তখন ভ্যাকসিন গ্রহণের জায়গায় ব্যথা হওয়া, জ্বর জ্বর ভাব হওয়া ও গা ব্যথা করা এই ধরনের পাশর্^প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। আমরা মনে করি, এটা এখানেও থাকতে পারে। মারাত্মক কোনো কিছু আছে কি না সেদিকে দৃষ্টিপাত করছি।

 

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার খুব সফল একটা অনুষ্ঠান হয়েছে। এটা আসলে আনুষ্ঠানিকতা। অল্প কিছু মানুষকে ভ্যাকসিন প্রয়োগের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের সামনে টার্গেট হচ্ছে বাংলাদেশের ৮০ ভাগ মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা। যারা ভ্যাকসিন দিতে চেয়েছেন তাদের সবাইকে দেওয়া হয়েছে। তাদের কারও মধ্যেই উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, পাশর্^প্রতিক্রিয়া বা অন্য কোনো সমস্যা যদি দেখা দেয় তবে আমাদের টিম প্রস্তুত আছে। কোনো ধরনের পাশর্^প্রতিক্রিয়া হলে কী ম্যানেজমেন্ট করা লাগবে সে জন্য করোনা ভ্যাকসিন গ্রহীতাদের ফলোআপ করা হবে।

ভ্যাকসিন প্রদান কেন্দ্র, আইইডিসিআর, ১০৬৫৫, স্বাস্থ্য বাতায়ন এবং ৩৩৩ এই নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করলে পরামর্শ দেওয়া হবে সবাইকে।
অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, ২৮ জানুয়ারি আরও কয়েকটি হাসপাতালে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে। এর পরে আমরা পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করব। কোনো জায়গায় আমাদের পরিকল্পনায় কোনো ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না, সেটা দেখব। সব কিছু ঠিক থাকলে আমরা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভ্যাকসিন প্রদান শুরু করতে পারি।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই আমাদের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছে গেছে। সব প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষে আমরা জেলা পর্যায়ে ভ্যাকসিন পাঠানো শুরু করতে পারি। এক্ষেত্রে ভ্যাকসিন দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছানোর কাজ করবে বেক্সিমকো করবে। জেলা থেকে উপজেলায় ভ্যাকসিন যাবে সরকারি ব্যবস্থাপনায়। সেটা যাবে নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমের মাধ্যমে। উপজেলায় পৌঁছানোর পর ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করতে পারব বলে আশা করি।

 

প্রথম দিন সব মিলিয়ে মোট ২৬ জনকে টিকা দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা ছিলেন। বিকাল ৪টার দিকে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে টিকা প্রয়োগের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরই ৫ জনকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ভ্যাকসিন নেন সিনিয়র নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তা। এরপর পর্যায়ক্রমে টিকা নেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আহমেদ লুৎফুল মোবেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা, ট্রাফিক পুলিশ মো. দিদারুল ইসলাম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম ইমরান হামিদ। এ সময় তাদের প্রত্যেককে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ সরকারিভাবে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি ডোজ টিকা কিনেছে। এর প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা গত সোমবার দেশে এসে পৌঁছেছে। এর আগে ২০ লাখ উপহারের টিকা দেশে এসে পৌঁছে। সরকার দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৩ কোটি ৮২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০৮ জন মানুষকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। জাতীয়ভাবে করোনার টিকা বিতরণ ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন ভাগে মোট পাঁচ ধাপে এসব টিকা দেওয়া হবে। মহামারি প্রতিরোধে সামনের কাতারে থাকা মানুষ প্রাধান্য পাবে। করোনাভাইরাসের টিকার জন্য নিবন্ধন করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৫০৯ জন। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৯৫৩ জন হয়েছে। আর প্রাণঘাতী ভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৮ হাজার ৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৬১১ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাতে এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৫৪৬ জন হয়েছে।

গত বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে। তা সোয়া ৫ লাখ পেরিয়ে যায় গত ১৪ জানুয়ারি। এর মধ্যে গত বছরের ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন করোনার রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যু হয়। এ বছর ২৩ জানুয়ারি তা ৮ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে গত বছরের ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়, যা এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১১৬টি আরটি-পিসিআর ল্যাব, ২৮টি জিন-এক্সপার্ট ল্যাব ও ৬০টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ল্যাবে অর্থাৎ সর্বমোট ২০৪টি ল্যাবে ১৪ হাজার ৮৩০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৩৬ লাখ ১৫ হাজার ৩৩৮টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫১ শতাংশ। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৮ লাখ ২৭ হাজার ৩৩০টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৮টি।

সবার কাছে নিউজটি পাঠাতে বেশি বেশি Share করুন....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় সংবাদ পেতে আমাদের সাথে থাকুন.......
© All rights reserved © 2019 Daily Somoy Express.
কারিগরি সহযোগিতায় দৈনিক সময় এক্সপ্রেস.