1. rony07557@gmail.com : admin :
January 26, 2021, 5:17 am
শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রীকে করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর আহবানঃ জাফরুল্লাহ সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে আজ মাঠে নামছে টাইগাররা মুজিববর্ষের ঘর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ নেত্রকোনায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক অধিকার পরিষদের মাস্ক বিতরণ ১০ টাকার চাল এখন ৭০ টাকায় খেতে হচ্ছে: ভিপি নূর ৬টি শর্ত মেনে স্বাক্ষর দিয়ে করোনা টিকা নিতে হবে ‘তোদের ওপরে আল্লাহর গজব পড়ুক’ ওবায়দুল কাদেরকে ভাই কাদের মির্জা নড়াইলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর ফাঁসির আদেশ, এক লাখ টাকা জরিমানা স্বৈরতন্ত্রকে জনগণের উপর চাপিয়ে দিয়েছে আ-লীগ-বিএনপি:জিএম কাদের অধিভুক্ত সাত কলেজের সমস্যা সমাধানে,ছাত্র অধিকার পরিষদের স্মারকলিপি প্রদান

প্রদীপের ইয়াবা বাণিজ্য ও নির্যাতন-নিপীড়নের তথ্য জানায় পরিকল্পিত খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Publishe Time, Monday, December 14, 2020,
  • 271 0 view
ক্যাপশন ফটো- সময় এক্সপ্রেস.

টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাসের ইয়াবা বাণিজ্য ও নির্যাতন-নিপীড়নের কথা জেনে যাওয়ায় মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। আর এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল ওসি প্রদীপ। তার নির্দেশেই সিনহাকে হত্যা করা হয়। মূলত হত্যার পরিকল্পনা হয় জুলাই মাসের মাঝামাঝি।

টেকনাফ থানায় বসে ওসি প্রদীপসহ পাঁচজন মিলে এই হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে ওসির নির্দেশেই বাহারছড়া ক্যাম্পের পরিদর্শক লিয়াকত আলী সিনহাকে গুলি করে। হত্যার পর পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ বাকি আসামিদের নিয়ে মাদক উদ্ধারের নাটক সাজায় ওসি প্রদীপ। আলোচিত এ হত্যা ঘটনার ৪ মাস ১০ দিন পর তদন্ত শেষে রোববার সকালে আদালতে ওসি প্রদীপসহ ১৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে র‌্যাব।

এর মধ্যে নয়জন টেকনাফ থানার বরখাস্ত পুলিশ সদস্য, তিনজন এপিবিএন সদস্য এবং স্থানীয় তিনজন বেসামরিক লোক রয়েছে। যাদের ১৪ জনকে র‌্যাব গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছে এবং সাগর দেব নামে এক পুলিশ সদস্য পলাতক। অভিযোগপত্র দেওয়ার পর দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

এর আগে রোববার সকালে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনটি দাখিল করেন র‍্যাব-১৫-এর কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. খায়রুল আলম। সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর তিনটি মামলা হয়। ওই তিন মামলায় সিনহা মো. রাশেদ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে মাদক ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। ওই অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি চেয়ে র‍্যাব আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর এএসপি খায়রুল সাংবাদিকদের জানান, সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের করা মামলার তদন্ত শেষে আমরা আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছি। তবে সিনহা হত্যার ঘটনায় মাদক ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে করা তিনটি মামলার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, হত্যার ঘটনা তদন্ত নেমে র‌্যাব এ ঘটনায় ১৫ জনের সংশ্লিষ্টটা পেয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপসহ ১৪ জন বর্তমানে কারাগারে।

সাগর নামে ওসি প্রদীপের এক সহযোগীকে পলাতক দেখানো হয়েছে। চলতি বছরের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ। এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় অভিযোগপত্র জমা দিল র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মুখপাত্র আশিক বিল্লাহ আরও জানান, ওসি প্রদীপ টেকনাফে অস্ত্র ও নির্যাতনের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। মাদক ব্যবসা থেকে প্রতি মাসে প্রদীপ অর্ধকোটি টাকা কামাত। পাশাপাশি সরকারি অস্ত্র ব‌্যবহার করে অনৈতিক কাজও করেছে সে। এ ছাড়াও ওসি প্রদীপ এলাকাবাসীকে জিম্মি করে বিভিন্নভাবে ক্রসফায়ারের ভয়ভীতিও দেখাত।

আশিক বিল্লাহ আরও জানান, ঘটনার সাক্ষী, আলামত, আসামিদের জবানবন্দির মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠভাবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাস। হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এবং অন্য খাতে প্রবাহিত করার জন্য সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রদীপ কুমার দাসের প্রত্যক্ষ ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে অন্য আসামি এসআই লিয়াকত আলী, মো. নুরুল আমিন, পুলিশের সোর্স মুহাম্মদ আয়াজ ও মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন।

আবার লিয়াকত আলীকে সহযোগিতা করে আরেক পুলিশ সদস্য নন্দ দুলাল। পাশাপাশি এপিবিএনের তিন সদস্যের সহায়তায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। পরবর্তী সময়ে ওই ফাঁড়ির আরও পুলিশ সদস্য সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করতে এবং ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে জড়িত ছিল। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী প্রদীপ কুমার দাস। হত্যার ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে ওসি প্রদীপ বাকি অভিযুক্তদের সহযোহিতা করে। তদন্ত কর্মকর্তা আজ (গতকাল) আদালতে ২৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের ১২ জন দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি দেয়নি বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাস ও রুবেল শর্মা। তদন্ত কর্মকর্তারা ৮৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন। এর বাইরেও বিভিন্ন ধরনের আলামত ও ডিজিটাল কনটেন্ট পর্যালোচনা করেছেন।

সিনহাকে হত্যার কারণ ও পরিকল্পনা সম্পর্কে র‌্যাবের মুখপাত্র আশিক বিল্লাহ জানান, মেজর সিনহা একটি ইউটিউব চ্যানেল চালু করার কারণে তিনি কক্সবাজার এলাকায় ভিডিও ধারণ করছিলেন। সিনহা বন্ধুবৎসল ছিলেন। তার সঙ্গে স্থানীয়দের সখ্য গড়ে ওঠে। তিনি এক পর্যায়ে ওসি প্রদীপের নির্যাতনের ঘটনা এবং ইয়াবা বাণিজ্য সম্পর্কে তথ্য জানতে পারেন। এ বিষয়ে ওসি প্রদীপের বক্তব্য নিতে সিনহা থানায় যান।

ইতোমধ্যে ওসি প্রদীপ সিনহা সম্পর্কে সবকিছু জেনে যাওয়ায় তাকে বক্তব্য না দিয়ে উল্টো সরাসরি হুমকি দেন। ওসি প্রদীপ ভেবেছিল, হুমকি দিলে সিনহা কক্সবাজার ত্যাগ করবেন। কিন্তু কক্সবাজার ত্যাগ না করায় হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তে এমনটিই পেয়েছেন। ওসি প্রদীপের কথা না শোনায় মেজর সিনহাকে হত্যা করা হয়। মূলত দুটি কারণে ওসি প্রদীপ মেজর সিনহাকে হত্যার পরিকল্পনা করে বলে মনে করে র‌্যাব।

এ ব্যাপারে আশিক বিল্লাহ জানান, যেহেতু ওসি প্রদীপ টেকনাফে একটি রাজ্য গড়ে তুলেছিল আর সেটা যাতে কর্তৃপক্ষকে না জানান সেজন্য ওসি প্রদীপ সরাসরি হুমকি দেয়। কিন্তু সিনহা তার কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখেন। এ কারণে ওসি প্রদীপ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও তার সহযোগীরা হত্যার মতো ন্যক্কারজনক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। মেজর (অব.) সিনহার ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল কি না এবং সিনহা তার সহকর্মীদের নিয়ে থানায় গিয়েছিলেন কি না সে সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে টেকনাফ থানার কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজারের তৎকালীন পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেনের ভূমিকা সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, ঘটনা ঘটার পরও ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া ছিল অপেশাদারি আয়োজন। এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি। গ্রেফতার ১৪ আসামিকে র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এর মধ্যে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাস ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা ছাড়া ১২ আসামি আদালতে ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৩ জুলাই ‘জাস্ট গো’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে ট্রাভেলস শো ডকুমেন্টারির শুটিংয়ের জন্য তিনজন সহযোগীসহ কক্সবাজারের নীলিমা রিসোর্টে ওঠেন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ। এ খবর পৌঁছে যায় টেকনাফের তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমারের কাছে। তখন থেকেই ওসি প্রদীপ অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের বলে, ‘ভিডিও পার্টিকে এখান থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে যেকোনো মূল্যে।’ এরপর থেকেই সিনহাকে নজরদারিতে রাখে পরিদর্শক লিয়াকত ও এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত।

৩১ জুলাই সকালে একটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ‘বৃক্ষরোপণ’ অনুষ্ঠান শেষে ওসি প্রদীপকে জানানো হয়, মেজর সিনহা রাশেদ প্রাইভেটকার নিয়ে টেকনাফের শামলাপুর পাহাড়ে গেছেন। এ সময় সোর্সের মাধ্যমে বাহারছড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী সিনহার প্রতি নজর রাখতে থাকে। ওইদিন রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের দিকে আসার পথে বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে তল্লাশির নামে গাড়ি থেকে নামিয়ে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

এ ঘটনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন ও নিরাপত্তা বিভাগ। একইভাবে তদন্তের স্বার্থে টেকনাফের বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলীসহ ১৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।

গত ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ নয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে টেকনাফ থানায় মামলাটি নেওয়া হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, গুলি করার আগে লিয়াকত তার সঙ্গে ফোনে পরামর্শ করেছিল। ওসির ‘প্ররোচনা ও নির্দেশনাতেই’ লিয়াকত ঠান্ডা মাথায় সিনহাকে গুলি করে হত্যা করে। পরে ওসি প্রদীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিনহার ‘মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পায়ের জুতা দিয়ে আঘাত করে’ বিকৃত করার চেষ্টা করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

সিনহার বোনের মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার, বাহারছড়া ক্যাম্পের পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, টেকনাফ থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য ছাড়াও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-এপিবিএনের তিনজন এবং স্থানীয় তিনজনসহ মোট ১৪ জনকে অভিযুক্তের পর গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে সিনহার বোনের করা মামলাটি বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা চেয়ে গত ৪ অক্টোবর কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে লিয়াকতের আইনজীবী মাসুদ সালাহউদ্দিন একটি রিভিউ আবেদন করেন। সর্বশেষ রোববার এই মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে আবেদনের রিভিউ বাতিল হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

অনুগ্রহ করে নিউজটা শেয়ার করুন, নিজে পড়ুন অন্যকে ও পড়তে সাহায্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2019 দৈনিক সময় এক্সপ্রেস.

কারিগরি সহযোগিতায় দৈনিক সময় এক্সপ্রেস.