রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ০৩:৩০ অপরাহ্ন

স্বাভাবিক জীবনে ফেরা হলো না শারমিনের: ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় | শনিবার, ১৩ জুন, ২০২০
  • ৩১৫ ০ /বার পঠিত

স্বামীর সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদ আর অভাবের তাড়নায় অন্ধকার জীবনের পথ বেছে নিয়ে ছিল শারমিন। কিন্তু এই পথ তার ভালো লাগতো না। এক পর্যায়ে একটি মাস্ক তৈরির কারখানায় কাজ নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখে সে। কিন্তু  দুর্বৃত্তরা শারমিনের ভালো হয়ে যাওয়া মেনে নিতে পারেনি। কৌশলে তাকে ডেকে নিয়ে প্রথমে চার জনে মিলে ধর্ষণ করে। তারপর একজন হুট করে তার হাত বেঁধে ফেলে ওড়না দিয়ে। আরেকজন পা চেপে ধরে থাকে শক্ত করে। অপরজন গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য কোমর থেকে তারা চাপাতি বের শারমিনের গলা কেটে দেয়। তারপর পরনের জামাটি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে রেখে চলে যায় দুর্বৃত্তরা।

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (৬ জুন), রাজধানীর উত্তরখান থানার বৈকাল রোড এলাকায়। পুলিশ নিহত শারমিনের লাশ উদ্ধারের পর প্রথমে তার পরিচয় শনাক্ত করে। এরপর অভিযান চালিয়ে একে একে গ্রেফতার করে চার ধর্ষক-খুনিকে। এদের মধ্যে দু’জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার উত্তরখান থানার বৈকাল রোডের একটি নির্জন এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর দেওয়া হয় সিআইডির ক্রাইম সিনকে। সুরতহাল সম্পন্ন করে লাশ পাঠিয়ে দেওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। সেখানে শারমিনের পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ। এরপর শুরু হয় তদন্ত। পুলিশের উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি দক্ষিণখান) হাফিজুর রহমান রিয়েল বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, লাশ উদ্ধারের পরপরই গুরুত্ব দিয়ে খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু হয়। টানা অভিযানে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে মাসুদ, ফুরকান, আনোয়ার ও সাইফুল নামে চার খুনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে ফুরকান ও সাইফুল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বাকি দুজনকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

পুলিশ জানায়, উত্তরখানের সিদ্ধিরটেক এলাকার হাজি মাহতাবের ভাড়া বাড়িতে পাশাপাশি কক্ষে ভাড়া থাকে চারটি পরিবার। ওই বাড়ির একটি কক্ষে নিহত শারমিন তার তিন বছরের মেয়েকে  নিয়ে থাকতো। এক পর্যায়ে পাশের কক্ষের ভাড়াটে বিবাহিত ফুরকানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে শারমিনের। তাদের মাঝে নিয়মিত মেলামেশাও চলতো। সম্প্রতি ফুরকান জানতে পারে যে, শারমিনের সঙ্গে আরও অনেকের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এতে ভেতরে-ভেতরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সে। সহকর্মী মাসুদও ফুরকানকে জানায়, শারমিনের সঙ্গে তারও প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এরপর  শারমিনকে একটা শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করে তারা। তাদের দলে যোগ দেয় আনোয়ার ও সাইফুল। পরিকল্পনা অনুযায়ী চার জন  মিলে  ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে শারমিনকে।

যেভাবে হত্যা করা হয়

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, পরিকল্পনায় অনুযায়ী ঘটনার দিন অর্থাৎ (৫ জুন) শুক্রবার বিকালে হাসিমুখে শারমিনের সঙ্গে কথা বলে ফুরকান। কথা আছে বলে শারমিনকে সন্ধ্যা সাতটার দিকে গেটের বাইরে দেখা করতে বলে। শারমিন সময় মতো বাসার বাইরে বের হয়ে ফুরকানের সঙ্গে হাঁটতে থাকে। একটু দূরে মাসুদকে দেখে চমকে ওঠে শারমিন। একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে টাকার বিনিময়ে সম্পর্কের বিষয়ে শারমিনকে জিজ্ঞাসা করে মাসুদ। চুপ করে থাকে শারমিন। এরইমধ্যে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় সাইফুল ও আনোয়ার। তারা সবাই মিলে ফুসলিয়ে শারমিনকে নিয়ে যায় পাশের বৈকাল রোডের একটি নির্জন জায়গায়। মাসুদ শারমিনের হাতে সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে অবৈধ কাজ করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু শারমিন এসব বাজে কাজ ছেড়ে দিয়েছে জানালে ক্ষিপ্ত হয় মাসুদ, ফুরকানসহ চার জনই। তারা জোর করে শারমিনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ধর্ষণ শেষে শারমিন বিষয়টি সবাইকে বলে দেওয়ার হুমকি দেয়। এতে আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে শারমিনের হাত দুটো ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলে মাসুদ। মাসুদের নির্দেশে ফুরকান শারমিনের হাত ও মুখ চেপে ধরে। সাইফুল ও আনোয়ার চেপে ধরে দুই পা। শারমিনের সঙ্গে থাকা সাড়ে তিন হাজার টাকাও কেড়ে নেয় তারা। প্রথমে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ধারালো চাপাতি চালিয়ে দেওয়া হয় শারমিনের গলায়। রক্ত যাতে ছিটকে না বেরোয় সেজন্য সালোয়ার দিয়ে গলা প্যাঁচিয়ে নেওয়া হয়। শারমিনের মৃত্যু নিশ্চিত করে চার খুনি সটকে পড়ে ঘটনাস্থল থেকে।

পুলিশ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান রিয়েল জানান, করোনা মহামারির মধ্যে এই নৃশংস খুনের ঘটনাটি অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন তারা। প্রথমে তারা জামালপুরের বকশিগঞ্জ থেকে ফুরকান ও ঢাকা থেকে সাইফুলকে গ্রেফতার করেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাসুদ ও সাইফুলকে গ্রেফতার করা হয়। সাইফুল ও আনোয়ারও হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ আরও  জানায়, তারা তদন্তে জানতে পেরেছে যে, প্রায় বছরদুয়েক আগে বিবাহ বিচ্ছেদের পর আত্মীয়স্বজন ছাড়াই মেয়েকে নিয়ে থাকতো শারমিন। সম্প্রতি সে স্থানীয় একটি মাস্ক তৈরির কারখানায় কাজ নেওয়ার চেষ্টা করে আসছিল।

 

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

 

নিউজটি শেয়ার করার অনুরোধ রইল :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

সেহরির শেষ সময় - ভোর ৪:০৬ পূর্বাহ্ণ
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা ৬:৪২ অপরাহ্ণ
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:১১ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:০৮ অপরাহ্ণ
  • ৪:৪১ অপরাহ্ণ
  • ৬:৪২ অপরাহ্ণ
  • ৮:০২ অপরাহ্ণ
  • ৫:২৯ পূর্বাহ্ণ

© ২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক সময় এক্সপ্রেস.

themesba-lates1749691102