1. rony07557@gmail.com : admin :
October 28, 2020, 7:23 pm
শিরোনামঃ
স্থগিত হয়ে গেল পূর্বধলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্ধিত সভা গত ৭ মাসে দেশে ফিরেছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৫৮২ জন প্রবাসী বাংলাদেশি সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে, ইরফান সেলিমের এক বছরের কারাদণ্ড নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ গণ-অধিকার পরিষদে ৯দিনেই প্রায় ১০ লাখ টাকার অনুদান লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে মাদকসহ আটক ৪ ইসলাম অপমানের কারনে ফ্রান্সের জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন না পল পগবা মেজর সিনহার হত্যা, লে.ওয়াসিমের ওপর হামলা অবৈধ সরকারেরই ফসল : সোহরাব আশুজিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পূর্জামন্ডপ পরিদর্শন করেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী উজ্জ্বল খান নির্ধারিত সময়ে সিনেমা জমা না দেওয়ায়, কবি টোকন ঠাকুর গ্রেফতার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ইসরাইলেও

যশোরে চান্দুয়া সমসকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ভেঙ্গে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা

নিলয় ধর, যশোর
  • Publishe Time, Monday, June 8, 2020,
  • 276 0 view

যশোর মনিরামপুরে একজন শিক্ষার্থীকে জে,এস,সি পাশ করাতে বেতন হিসেবে শিক্ষকরা সরকারি অর্থ গ্রহণ করেছে ৫ লক্ষাধিক টাকা। বিষয়টি অবিশ্বস্য মনে হলেও বাস্তবে ভিন্নতা নেই কোন। বিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষক কর্মচারী বেতন হিসেবে বার্ষিক সরকারি অর্থ গ্রহণ করছে ২৯ লক্ষ ১৫ হাজার ২৮০ টাকা। যা বিদ্যালয়ের শিক্ষক- কর্মচারীদের মাসিক বেতন সিটে উত্তোলন হচ্ছে ২ লক্ষ ৪২ হাজার ৯৪০ টাকা। যা জে,এস,সিতে ১জন শিক্ষার্থীকে পাশ করাতে শিক্ষক কর্মচারীদের পিছনে বেতন হিসেবে সরকারকে ব্যয় করতে হয়েছে ৪ লক্ষ ৮৫ হাজার ৮৮০ টাকা।

প্রতি মাসে ১৪ জন শিক্ষক কর্মচারী বিপুল অংকের এই টাকা গ্রহণ করা হলেও গত বছর জে,এস,সিতে পাশ করেন মাত্র ৬ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া ২০১৮ সালে মাত্র ৪ জন, ২০১৬ সালে ৫ জন এবং ২০১৫ সালে ১০জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। যা রীতিমত অবাক করার বিষয় হলেও এটাই বস্তবতা। এলাকাবাসী বলছেন ১৯৯৪ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হলেও শিক্ষার মানের দিক দিয়ে কোন উন্নতি হয়নি।

এলাকাবাসীর কেউ কেউ মন্তব্য করে বলেছেন, এটি বিদ্যালয় নয়, একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রুপ নিয়েছে। যা দেখারও কেউ বলে মনে করেন তারা। প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার পাইন সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী শিক্ষক শফিকুর রহমান (ইসলাম ধর্ম),সহকারী শিক্ষক শামীমা খাতুন, সহকারী শিক্ষক স্বপন কুমার মন্ডল (হিন্দু ধর্ম),প্রবীর সরকার (কৃষি বিজ্ঞান), সহকারী শিক্ষক শিমুল মন্ডল (গণিত), সহকারী শিক্ষক মোজাম্মেল হক, সহকারী শিক্ষক ডলি খাতুন, সহকারী শিক্ষক প্রদীপ দে (ব্যবসায় শিক্ষা),সহকারী শিক্ষক কামন প্রতাপ মন্ডল (কম্পিউটার), অফিস সহকারী শাহরিয়ার হোসেন ও ২ জন কর্মচারী এ ১৪জন প্রতি মাসে কেবল বেতনই নিচ্ছেন।

আলোচিত এই বিদ্যালয়টি যশোরের মণিরামপুর উপজেলাধীন চান্দুয়া সমসকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার এমন দশা হলেও সরকারি অর্থ গ্রহণ করতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ৮ জন শিক্ষক বেতন গ্রহণ করার বিধান থাকলেও এ বিদ্যালয়টিতে রয়েছে তার ভিন্নতা। কিভাবে বিধি বর্হিভূতভাবে এতো সংখ্যক শিক্ষক বেতন নিচ্ছেন তা কেবল বলতে পারবেন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তা ব্যক্তিরা। এছাড়াও বিদ্যালয়টি মাধ্যমিকে উন্নিত করতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

ইতোমধ্যে এস,এস,সি পরীক্ষা দেওয়ার অনুমোতিও পেয়েছে বলে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বিপদ ভঞ্জন পাড়ে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সরেজমিন চান্দুয়া সমসকাটিতে অনুসন্ধানে গেলে জানাযায়, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত এবার শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ৩৫ জন। ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী শিমলা,পিংকি এবং হুমায়রার সাথে কথা বলে জানাযায়, স্কুলে মেয়েদের চেয়ে স্যারেদের সংখ্যা বেশি।

এক পর্যায় শিক্ষার্থী হুমায়রা জানায়, তার ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে এবার শিক্ষার্থী রয়েছে ১৩ জন। ৭ম শ্রেণির সামিরা জানিয়ে তার শ্রেণিতে মাত্র ১০ জন। ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়াম, কুলছুম খাতুন জানায়,এই বছর তাদের শ্রেণিতে শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ১২জন। ৩ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ৩৫ জন থাকলেও নিয়মিত উপস্থিত থাকেন ২০-২৫ জন বলে তারা দাবী করেন।

কেবল ১৪ জনই শিক্ষক কর্মচারী নন এই  বিদ্যালয়টিতে। খোঁজ নিয়ে জানা য়ায়, বিদ্যালয়টিতে নবম- দশম শ্রেণির জন্য আরো কয়েকজন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিপুল অংকের টাকা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া এসব শিক্ষকদের বেতন কবে হবে সে অনিশ্চিত বিষয় নিয়ে দিন কাটছে তাদের। সালমা খাতুন নামের এক শিক্ষিকাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৮ লক্ষ টাকা নিয়ে। সম্প্রতি সালমা খাতুনের সাথে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরোধ হওয়ায় ওই শিক্ষিকা সালমা বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না বলেও জানা গেছে। এই শিক্ষিকা সালমা স্বামী মাহবুবুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আংশিক সত্যতা স্বীকার করেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার পাইন এলাকাবাসীর কাছে একজন জাদুকর হিসেবে পরিচিত। নীতিমালা উপেক্ষা করে জুনিয়র স্কুলে এতো সংখ্যক শিক্ষক কর্মচারীর বেতন করানো নিয়েই শিক্ষক মহলে আলোচনায় উঠে আসে সে। অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয়টিতে কাম্য শিক্ষার্থী না থাকলেও কিভাবে নীতি মালা বির্হভুত ভাবে বেতন হিসাবে সরকারি অর্থ পাশ করিয়ে আনছে প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার পাইন?

বিদ্যালয়ের এসব বিষয়ে মুঠোফোনে প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার পাইনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন জবাব না দিয়ে উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, অযথা পিছনে না লেগে অন্যকোন লাভ কাজ করেন। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বিপদ ভঞ্জন পাড়ে জানিয়েছেন, স্কুলের অভ্যন্তরিন বিষয় জানতে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলেন।

এব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিধি অনুযায়ী ৮ জন শিক্ষক বেতন ভোগ করতে পারবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে সর্বশেষ মন্ত্রনালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের আরো কিছু পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

তবে এ পদগুলিতে অনেকেই নিয়োগ দিলেও মন্ত্রনালয় থেকে এখনো বেতন ভাতার জন্য অর্থ ছাড় করেননি। চান্দুয়া সমসকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৪ জন কিভাবে বেতন ভোগ করছে? জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, হয়তো বা সেকশন দেখানো হয়েছে। তবে সেটি করতে কাম্য শিক্ষার্থী অবশ্যই থাকতে হবে।

 

অনুগ্রহ করে নিউজটা শেয়ার করুন, নিজে পড়ুন অন্যকে ও পড়তে সাহায্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2019 দৈনিক সময় এক্সপ্রেস.

কারিগরি সহযোগিতায় দৈনিক সময় এক্সপ্রেস.